যত্রতত্র পড়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। রাস্তার ধারে জমেছে বর্জ্যের স্তূপ। পড়ে রয়েছে এক হাজার ৭০০ টন আবর্জনা। এমন অবস্থা ব্রিটেনের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর বার্মিংহামের। খবর সিএনএনের।
এক বিবৃতিতে বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের নেতা জন কটন বলেছেন, ‘রাস্তার ধারে থাকা আবর্জনা শহরের ক্ষতি ও দুর্দশার কারণ হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক। এমন পরিস্থিতি সহ্য করা কঠিন। এর বিরুদ্ধে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।’
বার্মিংহাম শহরের কয়েকটি স্থির চিত্র প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। সেগুলোতে দেখা যায়, ডাস্টবিনে আবর্জনার স্তূপ উপচে পড়ছে।
সিএনএন বলছে, আবর্জনা জমার মূল কারণ হলো শহর কর্তৃপক্ষ ও স্যানিটেশন কর্মীদের বিরোধ। ২০২৪ সালেই শহরটির ট্রেড ইউনিয়ন ২০২৫ সালে ধর্মঘটে যাওয়ার কথা বলেছিল। ওই সময় তারা বলেছিল, অতিরিক্ত বেতনে কাটছাঁট, ওভারটাইমে নিষেধাজ্ঞা ও শহর কর্তৃপক্ষে বর্জ্য সংগ্রহের ভূমিকা বাতিলের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে ধর্মঘটে যাবে তারা।
গত ২৮ মার্চ এক বিবৃতিতে শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, একই বেতনে সমস্ত স্যানিটেশন কর্মীদের ভিন্ন চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাদেরকে স্বেচ্ছায় চাকরিচ্যুতি বা ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু তারা এতে সায় দেয়নি।
শহর কর্তৃপক্ষের ব্যয় কমাতে চাকরিচ্যুতির পদক্ষেপটি নেওয়া হচ্ছে বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়।
বিষয়টি নিয়ে ট্রেড ইউনিয়নের সেক্রেটারি শ্যারন গ্রাহাম বলেন, ‘বার্মিংহাম কাউন্সিল সহজেই বিরোধ সমাধান করতে পারত। কিন্তু তারা এর পরিবর্তে স্যানিটেশন কর্মীদের পদাবনতি, বেতনে কাটছাঁট ও চাকরিচ্যুতির পথে হাঁটছে।’ সোমবার এক বিবৃতিতে শ্যারন গ্রাহাম বলেন, ‘তারা ধর্মঘটকে পাত্তা দিচ্ছে না। যদি সমস্যাটি সুষ্ঠুভাবে সমাধান না হয় তাহলে শহর কর্তৃপক্ষকে অনেক বেশি খরচ করতে হবে।’
এদিকে রাস্তার ধারে বর্জ্যের পরিমাণ বাড়তে থাকায় অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে শহর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অস্থায়ী কর্মীদের বর্জ্য নিতে বাধা দিচ্ছে ইউনিয়ন। বর্জ্য নেওয়ার পিকআপগুলোকে আটকে দিচ্ছে তারা। ইউনিয়ন সদস্যরা ধর্মঘট আরও তীব্র করার পক্ষে।
সোমবার এক বিবৃতিতে সিটি কাউন্সিল দাবি করে, ইউনিয়ন সদস্যদের বাধার মুখে বর্জ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্রিটিশ সরকারও। গত সোমবার ধর্মঘট নিয়ে পার্লামেন্টে কথা বলেন সম্প্রদায়মন্ত্রী জিম ম্যাকমাহন। তিনি পার্লামেন্টে বলেন, ‘যেখানে সহায়তা প্রয়োজন সেখানে সমস্যা আরও প্রকট করে তোলা হচ্ছে। বিষয়টি সরকার পর্যবেক্ষণ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি বার্মিংহামের স্থানীয় নেতারা মনে করেন, সমস্যা সমাধান তারা করতে পারবে না তাহলে তারা সেন্ট্রালে সহায়তার জন্য অনুরোধ করতে পারে। এমন অনুরোধ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’