যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্প কেন গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান? ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব...

13725_p0mt66j8.jpeg

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনার দাবি পুনরায় জোরালোভাবে উত্থাপন করায় ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে গ্রিনল্যান্ড ‘অধিগ্রহণ’ জরুরি বলে দাবি করে তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। তবে এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব এবং ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র ডেনমার্ক, যার অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলো গ্রিনল্যান্ড।

আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে এটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, সামরিক নজরদারি এবং আর্কটিক নৌপথ পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এবং বর্তমানে পিটুফিক স্পেস বেস থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে অপরিহার্য।

গ্রিনল্যান্ডের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে বিরল খনিজ, ইউরেনিয়াম এবং সম্ভাব্য তেল-গ্যাস মজুদও আন্তর্জাতিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, এসব সম্পদ তার আগ্রহের মূল কারণ নয়, তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কৌশলগত সম্পদের প্রশ্নে তার প্রশাসন বরাবরই আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরোধিতার জবাবে ট্রাম্প ডেনমার্কসহ একাধিক ইউরোপীয় মিত্র দেশের ওপর অতিরিক্ত বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এতে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক আরও চাপে পড়েছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইউরোপকে হুমকি দিয়ে বা ব্ল্যাকমেইল করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নও সম্মিলিত ও কঠোর প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে প্রায় তিন শতাব্দী ধরে ডেনমার্কের অধীনে থাকা গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সালে স্বায়ত্তশাসন লাভ করে। তবে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা এখনো ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। গ্রিনল্যান্ডে ডেনিশ ও মার্কিন উভয় সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপের কয়েকটি দেশ সেখানে যৌথ সামরিক মহড়া ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করেছে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন ট্রাম্পের দাবিকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত কল্পনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডবাসীর বড় অংশ ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ধারণা তারা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক—উভয় জায়গাতেই ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের এই অবস্থান শুধু একটি ভূখণ্ড দখলের প্রশ্ন নয়, বরং এটি ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

Source: BBC

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও