মধ‍্যপ্রাচ্য

মোজতবা খামেনি লাইফ সাপোর্টে

14727_OPsl6orRHc86W8EuaW32W5LLFqxtOyhnDkHVxJsI.jpeg

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এক বিমান হামলায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হওয়ার পর থেকে নিজে শ্বাস নিতে পারছেন না এবং তাকে ভেন্টিলেটরের সাহায্যে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি ওই হামলায় গুরুতর আঘাত পান। এতে তার শরীরের এক বা একাধিক পা কেটে ফেলতে হয়েছে এবং লিভার বা পেটে মারাত্মক ক্ষত তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কোমায় আছেন এবং তার মস্তিষ্কের কার্যক্রমও অত্যন্ত সীমিত বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন। হাসপাতালের এক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ভেন্টিলেটরের সাহায্য ছাড়া তার হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে না।

খবরে বলা হয়েছে, যে হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হন, সেই একই হামলায় তার বাবা ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। পাশাপাশি হামলায় মোজতবার স্ত্রী ও আট বছর বয়সী ছেলে সহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে ইরানের সামরিক কার্যক্রম থেমে নেই। বিভিন্ন সূত্রের মতে, দেশটির ক্ষমতাধর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বর্তমানে যুদ্ধ পরিচালনার মূল দায়িত্ব নিয়েছে। ফলে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থার কারণে যুদ্ধ পরিচালনায় তেমন কোনো প্রভাব পড়ছে না বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার নামে একবার একটি বক্তব্য রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হলেও সেটি তিনি নিজে দিয়েছেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ওই বক্তব্যে ইরানের শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, তেহরানের সিনা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের একটি অংশ কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানেই মোজতবা খামেনির চিকিৎসা চলছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চিকিৎসক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও খ্যাতনামা ট্রমা সার্জন ডা. মোহাম্মদ রেজা জাফারগান্দি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার গুরুতর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লেও দেশটির সামরিক কাঠামো এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দুর্বল হলেও আঞ্চলিক কমান্ডের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনা অব্যাহত রাখা সম্ভব।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও