ইতালি

ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

14861_14e47ea8-208e-429f-a0d8-2bdd3cce82dc.jpeg

মিনহাজ হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি: ইতালির রাজধানী রোমে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে ২৬ মার্চ বাংলাদেশ দূতাবাস শহরের একটি অভিজাত হোটেলের বলরুমে কূটনৈতিক অভ্যর্থনার আয়োজন করে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ইতালিয়ান ব্যক্তিবর্গ, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকগণ, রোমস্থ জাতিসংঘের তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়া ডিভিশনের মহাপরিচালক ও রাষ্ট্রদূত মিজ আলেসসান্দ্রা স্কিয়াভো।

সঞ্চারী সঙ্গীতায়নের শিশু কিশোরদের পরিবেশনায় বাংলাদেশ ও ইতালির জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে উপস্থিত অতিথিদের আবেগাপ্লুত করে।

পরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রোমের মেয়র-এর প্রেরিত বক্তব্যপাঠ করে শোনানো হয়। তিনি রোমের অর্থনীতিতে প্রবাসীবাংলাদেশিদের অবদান তুলে ধরেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে ইতালিয়ান সমাজে একীভূতকরণের হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক। তিনি বক্তব্যের শুরুতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী লক্ষ লক্ষ শহীদ, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক এবং সক্ষমতার বিষয়উল্লেখ করেন। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমেগঠিত সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে একটিসুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা যার যারজায়গা থেকে বাস্তবায়নের জন্য সকলকে আহবান জানান। রাষ্ট্রদূত তাঁরবক্তব্যে বাংলাদেশ-ইতালি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নেরবিভিন্ন আঙ্গিক উল্লেখ করেন। তিনি ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরঅবদানের কথা উল্লেখ করে ইতালি এবং বাংলাদেশ উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাঁদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

বিশেষ অতিথি রাষ্ট্রদূত মিজ আলেসসান্দ্রা স্কিয়াভো তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ-ইতালি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি তাঁরবক্তব্যে বর্তমান সরকারের সাথে ইতালি সরকারের সম্পর্ক আরও দৃঢ়করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বাণিজ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা,প্রতিরক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ইতালির পারস্পরিক সহযোগিতাবৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ হতে ইতালিতে বৈধ উপায়ে অধিকতর দক্ষ কর্মীপ্রেরণের লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ কর্ণার স্থাপনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী দেশীয় শাড়ি ও হস্তশিল্পের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এর সাংস্কৃতিকবৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা হয়।

আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পর্ব শেষে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি ও ইতালিয়ান খাবারের সমাহার।

ইতালিতে এই আয়োজন কেবল একটি দিবস উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি বাংলাদেশ ও ইতালির ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় বার্তা বহন করেছে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও