
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনিকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস। তারা দাবি করেছে, খামেনি এখনও অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।
মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) টাইমস ম্যাগাজিনের বরাতে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আহত হওয়ার পর ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা বর্তমানে ইরানের পবিত্র শহর কুমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একটি কূটনৈতিক নথির বরাতে বলা হয়েছে, তিনি ‘গুরুতর অবস্থায়’ আছেন এবং শাসন ব্যবস্থার কোনো সিদ্ধান্তে যুক্ত হওয়ার মতো অবস্থায় নেই।
এই প্রথমবারের মতো ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান প্রকাশ্যে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কুম শহরটি শিয়া ইসলামের ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তথ্য মূলত মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা। এটি উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে।
এদিকে, তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মরদেহ কুম শহরে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কুমে একটি বড় মাজার নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে, যেখানে একাধিক কবরের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের আরও সদস্যদের পাশাপাশি মোজতবা খামেনেইকেও সেখানে দাফন করা হতে পারে। যা তার শারীরিক অবস্থার গুরুতরতার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এনডিটিভি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কোনো পক্ষই এই প্রতিবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। একই হামলায় তার মা, স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং এক সন্তান নিহত হন। তার বাবা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর মার্চের শুরুতে তাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বা তার কণ্ঠ শোনা যায়নি।
যদিও ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে তিনি এখনো দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার গুরুতর অসুস্থতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কিছু সূত্র বলছে তিনি কোমায় আছেন, আবার কেউ কেউ দাবি করেছেন তার পা ভেঙে গেছে এবং মুখে আঘাত রয়েছে।