ইতালি

ইতালিতে ভাইকে খুন: এবার বেরিয়ে এলো দুই নারীর চক্রান্ত

15266_IMG_2017.jpeg

ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুনের ঘটনায় বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহত প্রবাসী নয়ন ফকির ও অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরের মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের বাসিন্দা। দুই ভাইয়ের পারিবারিক ও আর্থিক দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে গড়ায় বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ।

এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দুই নারীর চক্রান্ত রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন ফকির দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে তিনি ছোট ভাই নয়ন ফকিরকেও ইতালিতে নিয়ে যান। বিদেশে নেওয়ার জন্য খরচ হওয়া অর্থ ধীরে ধীরে পরিশোধ করছিলেন নয়ন। একপর্যায়ে হুমায়ুন গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এর পর থেকেই পরিবারে বিরোধ বাড়তে থাকে।

এ ঘটনার নেপথ্যে কেবল এক ভাইয়ের ক্ষোভ নয়, বরং কাজ করেছে দুই নারীর দ্বন্দ্ব-হিংসা এবং আর্থিক লালসা। টাকার মেশিন ছোট ভাই নয়নের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে স্বামী হুমায়ুনকে উসকানি দিতেন তার দুই স্ত্রী। খুনের পর শোকাতুর মা-বাবার বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলাও করেছেন প্রথম স্ত্রী।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নয়ন পরিবারের ব্যয় বেশি বহন করতেন। বাবার অসুস্থতার সময় ৩ লাখ টাকা দিয়ে চিকিৎসা করানো থেকে শুরু করে সংসারের প্রতিটি খরচ তিনি বহন করতেন। সম্প্রতি পাশের এলাকায় ১০ শতাংশ জায়গা প্রায় ৪০ লাখ টাকা দিয়ে কেনেন তিনি। নয়নের এই অভাবনীয় সাফল্যই বড় ভাইয়ের দুই স্ত্রীর চোখে বিষ হয়ে দাঁড়ায়।

হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী (আমেনা আফরিন) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবা- এই দুই নারীই নয়নের প্রতি হুমায়ুনকে খেপিয়ে তুলেছিলেন। তারা প্রতিনিয়ত হুমায়ুনকে খোঁচা দিয়ে বলতেন, ‘তুমি বড় ভাই হয়েও ইতালিতে থেকে কিছুই করতে পারছো না, অথচ ছোট ভাই এত ধন-সম্পদ বানাচ্ছে’ এই তুলনা আর হিংসার আগুনে পুড়ে হুমায়ুন নিজের ভাইয়ের শত্রু হয়ে ওঠেন।

 

 

নয়নকে খুন করার দিন হুমায়ুন তার প্রথম স্ত্রীকে একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি দম্ভ করে লিখেছিলেন আজ নয়নকে মেরেই আমি ভাত খাবো। অর্থাৎ, এই হত্যাকাণ্ড কোনো তাৎক্ষণিক রাগ নয়, বরং এটি ছিল ঠান্ডা মাথায় করা এক নৃশংস পরিকল্পনা, যার কথা তার প্রথম স্ত্রী আগে থেকেই জানতেন।

 

 

এ বিষয়ে হুমায়ুনের দ্বিতীয় স্ত্রী তাইয়েবা বলেন, ‘দুই ভাইয়ের মধ্যে টাকাপয়সা নিয়ে সমস্যা ছিল। সেই দ্বন্দ্ব থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। এখানে আমার কোনো দোষ নেই।’

 

 

নিহত নয়নের মা বড় ছেলে হুমায়ুনের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বলেন, ‘আমার ছোট ছেলে নির্দোষ ছিল। তাকে অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দুই স্ত্রীর চাপে পড়ে হুমায়ুন এই কাজ করেছে।’

 

 

শোকাতুর মা-বাবার বিরুদ্ধে পুত্রবধূর মামলা

 

 

নয়নের মৃত্যুর পর শোকে স্তব্ধ পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছেন হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন। তিনি নয়নের বৃদ্ধ মা-বাবা এবং তার ননদের বিরুদ্ধে থানায় চুরির মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি দাবি করেছেন, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদ মিলে তার বাসায় লুটপাট চালিয়েছে এবং ১ লাখ টাকাসহ টিভি-ফ্রিজ নিয়ে গেছে। এ মামলার ঘটনায় এলাকাবাসীকে স্তম্ভিত।

প্রসঙ্গত, ইতালির লেইজ শহরে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন ছোট ভাই নয়ন ফকির। মোবাইলে ভিডিও কলে ছোট ভাইয়ের মরদেহ দেখাচ্ছিলেন হুমায়ুন এবং তাকে হত্যার কথাও স্বীকার করেন তিনি। ঘটনার পর ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্ত হুমায়ুনকে আটক করেছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

 

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও