বিশেষ খবর


মা পচে গেলেন ঘরের ভিতরে

15660_Thumbnail-16~9-(4).jpg

মা ছোট্ট একটি শব্দ হলেও এর ভালবাসার বিশালতা সীমাহীন। পৃথিবীর সবচেয়ে অনুভূতি নিংড়ানো মধুর শব্দ ‘মা’। যে শব্দে প্রশান্তি, ভালোবাসা ও আকুল আবেগ জড়ানো।

আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার মাকে অসম্ভব ভালোবাসি। আমার অনেক লেখায়, আলোচনায় মায়ের কথা অনিবার্যভাবে চলে আসে। আমার মা কে আমার মসজিদ মন্দির মক্কা মদীনা তথা আমার বেহেশত মনে হয়।

ঈদের অবকাশযাপনে তুরস্কের আনাতোলিয়ায় অবস্থানকালে মিরপুর-১১-এর নুরজাহান বেগম (৭২)-এর পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের খবরটি আমার চোখে পড়ে।
তখন আমার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল।

একজন মা, যাঁর তিন সন্তান অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত,একজন যুগ্ম সচিব, একজন বুয়েটের শিক্ষক, আরেকজন কানাডাপ্রবাসী,তিনি দিনের পর দিন একা ঘরে পড়ে থেকে মারা গেলেন। ঘরের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পুলিশ বলতে বাধ্য হয়েছে, “ঘর নয়, যেন ভাগাড়”। অথচ তাঁর সন্তানেরা জানতেও পারেননি।
এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়। এটি আমাদের সমাজের গভীর সাংস্কৃতিক, নৈতিক ও মানবিক পচনের প্রতীক।

উন্নয়নের ছায়ায় লুকানো সংকট: 

বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। কিন্তু এই উন্নয়নের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী যৌথ পরিবার ভেঙে নিউক্লিয়ার পরিবারের দিকে ঝুঁকছে। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুসারে, ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক জনগোষ্ঠী প্রায় ৯.২৮ শতাংশ (২.৫ কোটির বেশি)। ২০৫০ সাল নাগাদ এটি প্রায় ১৭ শতাংশে পৌঁছাবে।

শহুরে অভিবাসন, চাকরির প্রতিযোগিতা, পশ্চিমা জীবনধারার অনুকরণ এবং ভোগবাদী মানসিকতা বয়স্ক মা-বাবাকে ‘বোঝা’তে পরিণত করছে। আজকের শিশুরা ছোটবেলা থেকেই ইলেকট্রনিক ডিভাইসের নেশায় বড় হচ্ছে। বাবা-মা দুজনেই কাজে ব্যস্ত, সন্তানদের ছেড়ে দিচ্ছেন কাজের লোকের কাছে। বাসায় ফিরে বাচ্চারা ট্যাবলেটে গেম খেলছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করছে। মা-বাবার সঙ্গে আত্মিক সংযোগ গড়ে ওঠার সুযোগই পাচ্ছে না।

ফলে বড় হয়ে তারা মায়ের অসুস্থতায় পাশের রুমে না গিয়ে ফেসবুকে লিখছে, " My mom is ill, please pray for her.” মা দিবস এলেই শুধু আবেগী পোস্ট আর ফুলের ছবি, কিন্তু বাস্তবে মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে সময় কাটানোর ধৈর্য নেই। এই বিচ্ছিন্নতাই নুরজাহান বেগমের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

নিঃসঙ্গতা: নীরব এক জনস্বাস্থ্য সংকট

বয়স্ক মানুষের একাকীত্ব শুধু একটি মানসিক কষ্ট নয়, এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যাও। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি নিঃসঙ্গতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বয়স্কদের মধ্যে বিষণ্নতা, স্মৃতিভ্রংশ, হৃদরোগ এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অনেক প্রবীণ মানুষ শারীরিক অসুস্থতার চেয়ে বেশি কষ্ট পান অবহেলা, নিঃসঙ্গতা এবং নিজের প্রয়োজনীয়তা হারিয়ে ফেলার অনুভূতিতে। নুরজাহান বেগমের ঘটনাও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের শুধু খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসাই নয়, প্রয়োজন সঙ্গ, খোঁজখবর এবং আন্তরিক মানবিক সম্পর্ক।

বৃদ্ধাশ্রমের সংস্কৃতি ও চক্রাকার অভিশাপ:

আরও ভয়ংকর হলো বৃদ্ধাশ্রম সংস্কৃতির উত্থান। অনেক প্রতিষ্ঠিত সন্তান মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছেন, ভাবছেন “টাকা দিয়ে সেবা কিনে নিলাম”। কিন্তু তারা বুঝছেন না,তাদের সন্তানেরাও এই দৃশ্য দেখছে। আজ যে মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখছে, কাল তার নিজের সন্তান তাকেও সেখানে রেখে আসবে। এটি একটি বিষাক্ত চক্র তৈরি করছে, যা সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করছে।

আইন আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন নেই:

২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩। এই আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক সক্ষম সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণপোষণ (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি) নিশ্চিত করতে হবে।
শাস্তির বিধান: ধারা ৫(১) অনুসারে, যদি কোনো সন্তান এই দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে সে অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনূর্ধ্ব ৩ মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। সন্তানের স্ত্রী/স্বামী বা অন্য নিকট আত্মীয় যদি এতে বাধা দেয় বা অসহযোগিতা করে, তাহলে তাকেও একই শাস্তি দেওয়া যাবে।
অপরাধগুলো জ্ঞাত, জামিনযোগ্য ও আপোষযোগ্য। পিতা-মাতা সরাসরি প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
কিন্তু বাস্তবে এই আইনের প্রয়োগ প্রায় শূন্য। অধিকাংশ বয়স্ক মা-বাবা আইন সম্পর্কে জানেন না, কিংবা সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা করতে চান না। ফলে আইনটি কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি 

ইসলাম ধর্ম: সর্বোচ্চ আনুগত্য ও ধৈর্যের পরীক্ষা

ইসলামে আল্লাহর ইবাদত করার ঠিক পরেই পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালনকে স্থান দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনের নির্দেশ (সূরা বনি ইসরাইল: ২৩-২৪): আল্লাহ আদেশ করেছেন পিতা-মাতার সাথে সর্বোচ্চ উত্তম ব্যবহার করতে। বিশেষ করে তাঁরা যখন বৃদ্ধ হন, তখন তাঁদের কোনো কথায় বা আচরণে বিরক্ত হয়ে ‘উফ’ বা সামান্য শব্দটুকুও করা যাবে না। তাঁদের ধমক দেওয়া যাবে না, বরং অত্যন্ত নরম ও বিনম্র ভাষায় কথা বলতে হবে।

জান্নাতের চাবিকাঠি: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী, “জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে” [১,২] এর অর্থ হলো, মায়ের সেবা ও সন্তুষ্টির মাধ্যমেই একজন মানুষ পরকালে জান্নাত বা স্বর্গ লাভ করতে পারে।

খ্রিস্টধর্ম: ঈশ্বরের প্রতি বাধ্যতা ও দীর্ঘায়ুর প্রতিজ্ঞা

জূডিও-খ্রিস্টান ঐতিহ্যে পিতা-মাতাকে সম্মান করাকে ঈশ্বরের আদেশের একটি মূল ভিত্তি ধরা হয়।
দশ আজ্ঞার পঞ্চম আজ্ঞা (Exodus ২০:১২): বাইবেলে বলা হয়েছে, "তোমার পিতা ও মাতাকে সম্মান করো।"
ঈশ্বরের প্রতিনিধি: বাইবেলের প্রথম ৪টি আজ্ঞা মানুষের সাথে ঈশ্বরের সম্পর্ক নিয়ে, আর পরের ৬টি আজ্ঞা মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে। মানুষের সম্পর্কের তালিকায় পিতা-মাতাকে সবার ওপরে রাখা হয়েছে, কারণ তাঁরা পৃথিবীতে ঈশ্বরের কর্তৃত্বের প্রতীক। এটিই একমাত্র আজ্ঞা, যার সাথে একটি পুরস্কার বা প্রতিজ্ঞা যুক্ত আছে,তা হলো, পিতা-মাতাকে সম্মান করলে পৃথিবীতে আয়ু ও মঙ্গল বৃদ্ধি পায়।

হিন্দুধর্ম: বাবা-মা হলেন জীবন্ত দেবতা

হিন্দুধর্মে পিতা-মাতাকে কেবল জন্মদাতা হিসেবেই নয়, বরং পৃথিবীতে ঈশ্বরের দৃশ্যমান রূপ হিসেবে দেখা হয়।
উপনিষদের বাণী: তৈত্তিরীয় উপনিষদের আদেশ হলো, " মাতৃ দেবো ভব, পিতৃ দেবো ভব"। অর্থাৎ, মা ও বাবাকে দেবতার মতো জ্ঞান করো (প্রত্যক্ষ দেবতা)।
পিতৃঋণ ও মাতৃঋণ: হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, মানুষ জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই কিছু ঋণ বা ঋণের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এর মধ্যে পিতা-মাতার সেবা করা এবং তাঁদের প্রতি কর্তব্য পালন করার মাধ্যমে পিতৃঋণ ও মাতৃঋণ শোধ করাকে একজন মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ ‘ধর্ম’ বা প্রধান কর্তব্য বলা হয়েছে।

বৌদ্ধধর্ম: গভীর কৃতজ্ঞতা ও পরম পুণ্য

বৌদ্ধধর্মে কর্মফল (Karma) এবং নৈতিকতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে পিতা-মাতা হলেন কৃতজ্ঞতার সর্বোচ্চ পাত্র। কৃতজ্ঞতা (কতঞ্ঞুতা) ও ঋণ শোধ (কতবেদিতা): গৌতম বুদ্ধ শিখিয়েছেন যে, একজন মানুষ যদি তার এক কাঁধে মাকে এবং অন্য কাঁধে বাবাকে নিয়ে ১০০ বছরও ঘুরে বেড়ায়, তাও তাঁদের ঋণের এক শতাংশও শোধ হবে না। 

পুণ্য অর্জন: বৌদ্ধ দর্শনে পিতা-মাতার সেবা করাকে একটি মহান পুণ্যকর্ম বা মহৎ কাজ বলা হয়েছে, যা মানুষের অন্তরের অহংকার দূর করে এবং ভালো কর্মফল (Good Karma) বয়ে আনে।

সব ধর্মেরই মূল কথা এক: সৃষ্টিকর্তার সাথে আপনার সম্পর্ক কখনোই পূর্ণাঙ্গ হবে না, যদি আপনার জন্মদাতার সাথে আপনার সম্পর্ক খারাপ থাকে। পিতা-মাতার প্রতি আচরণই হলো একজন মানুষের আসল চরিত্র, নৈতিকতা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের চূড়ান্ত পরীক্ষা।

সন্তানের পাশাপাশি সমাজেরও দায়:

নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় শুধু সন্তানের দায়িত্বহীনতার প্রশ্নই নয়, আমাদের সামাজিক সম্পর্কের দুর্বলতাও সামনে এসেছে। একটি জনবহুল নগরীতে একজন মানুষ দিনের পর দিন ঘরের ভেতরে পড়ে থাকলেন, অথচ প্রতিবেশী, পরিচিতজন কিংবা স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর কেউ তাঁর খোঁজ নিল না,এটিও গভীর উদ্বেগের বিষয়। একসময় আমাদের সমাজে প্রতিবেশীরা ছিলেন আত্মীয়ের মতো। আজ সেই সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রবীণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, প্রতিবেশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মসজিদ-মন্দিরভিত্তিক সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।


আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

যুক্তরাজ্যে আমি দেখেছি, ন‍্যাশনাল হেলথ সার্ভিস এবং লোকাল কাউন্সিলের মাধ্যমে বয়স্কদের জন্য হোম কেয়ার, অ্যাসিস্টেড লিভিং এবং কেয়ার হোমের শক্তিশালী ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ার-মেডিকেইড, জাপানে লং-টার্ম কেয়ার ইন্স্যুরেন্স, নেদারল্যান্ডসে কমিউনিটি-ভিত্তিক কেয়ার এসব মডেল থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে পারে। আমাদের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে পারিবারিক বন্ধনকে ভিত্তি করে হোম-বেসড কেয়ার ও কমিউনিটি সেন্টার গড়ে তোলা সম্ভব।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব:

রাষ্ট্রের দায়িত্বও কম নয়। পরিবার হচ্ছে প্রবীণদের প্রথম আশ্রয়স্থল, কিন্তু শেষ আশ্রয়স্থল হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও সমাজ। অনেক প্রবীণ মানুষ আছেন, যাঁদের সন্তান নেই, অথবা থাকলেও তাঁদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পান না। তাই স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে প্রবীণদের জন্য একটি কার্যকর সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। একটি মানবিক রাষ্ট্রের পরিচয় তার আকাশচুম্বী ভবনে নয়, বরং তার সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব পালনে।

সমাধানের পথ: এই সংকট থেকে বের হতে হলে বহুমাত্রিক উদ্যোগ দরকার

শিক্ষায় নৈতিকতার অন্তর্ভুক্তি: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় “পিতা-মাতার হক” ও পারিবারিক বন্ধন বিষয়ক পাঠ্য অন্তর্ভুক্ত করা।
পারিবারিক অভ্যাস গড়ে তোলা: অভিভাবকদের সন্তানদের বেশি সময় দেওয়া। সন্তানদের অন্তত সপ্তাহান্তে মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, গল্প করা ও তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনা।

আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন: ২০১৩ সালের আইনকে আরও শক্তিশালী করে প্রচার, সচেতনতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
সামাজিক নিরাপত্তা জাল: বয়স্কদের জন্য কমিউনিটি কেয়ার সেন্টার, হেল্পলাইন এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

প্রযুক্তি: সমস্যা নয়, সমাধানেরও অংশ

প্রযুক্তিকে আমরা প্রায়ই পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার জন্য দায়ী করি। কিন্তু সঠিক ব্যবহারে প্রযুক্তিই প্রবীণদের নিরাপত্তা ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। নিয়মিত ভিডিও কল, পারিবারিক যোগাযোগ গ্রুপ, জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা ব্যবস্থা এবং কমিউনিটি মনিটরিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দূরে থেকেও মা-বাবার খোঁজ রাখা সম্ভব। প্রযুক্তির প্রকৃত মূল্য তখনই, যখন তা মানুষের মধ্যে দূরত্ব নয়, বরং সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি করে।

আমাদের নিজেদের কাছেই একটি প্রশ্ন রেখে যেতে হবে,আমরা কি সত্যিই উন্নত হচ্ছি, যদি আমাদের মায়েরা নিঃসঙ্গতায় মৃত্যুবরণ করেন? যে সমাজে একজন মা দিনের পর দিন মৃত অবস্থায় পড়ে থাকেন, সেই সমাজকে কি আমরা সত্যিই সভ্য ও মানবিক সমাজ বলতে পারি?

নুরজাহান বেগমের মৃত্যু আমাদের সামনে এক কঠিন আয়না ধরে দিয়েছে। আমরা যদি ডিজিটাল নেশা, ব্যস্ততা ও স্বার্থপরতার অজুহাতে মা-বাবাকে ভুলে যাই, তাহলে উন্নয়নের সব অর্জন অর্থহীন হয়ে যাবে।

আমার মা যতদিন বেঁচে আছেন, আমি তাঁকে নিয়ে লিখব। আর যাদের মা এখনও আছেন, তাদের বলছি-আজই মায়ের কাছে ফিরে যান। একটু সময় দিন। কারণ মা চলে গেলে আর ফেরানো যায় না।

জনাব নুরজাহান বেগমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

 

 - নূর আলম সিদ্দিকী রাসেল


আইনজীবি, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও