আইন- আদালত

হাদি হত্যার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ১৬ বার পেছাল

15782_IMG_5721.jpeg

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছে আদালত। এ নিয়ে ১৬ বারের মতো পেছাল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ।

বুধবার (১৭ জুন ) ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ আদালত এই দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় নতুন ওই দিন ধার্য করেন আদালত।

চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের একই আদালতে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। আদালত জাবেরের নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মামলা পুনরায় তদন্তের আদেশ দেন।

গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। যেখানে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

এতে আসামিরা করা হয়—প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল, মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ ও জেসমিন আক্তার। এদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন শহীদ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে পালিয়ে যায়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও