যুক্তরাষ্ট্র

পুরো পৃথিবীর ভার কাঁধে তুলে নিলেন ট্রাম্প

15890_IMG_6451.jpeg

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নিজেকে পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। এবার তিনি নিজেকে গ্রিক পুরাণের কিংবদন্তি চরিত্র ‘অ্যাটলাস’-এর সঙ্গে তুলনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেছেন।

শনিবার ট্রাম্প তার নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্যে তৈরি একটি ছবি পোস্ট করেন। ওই ছবিতে দেখা যায়, তিনি আক্ষরিক অর্থেই পুরো পৃথিবীকে নিজের কাঁধে তুলে ধরেছেন। ছবিতে তিনি এক হাঁটু গেড়ে বসে আছেন এবং তার শরীরে একটি আমেরিকান পতাকা জড়ানো রয়েছে।

এই ছবিটি মূলত গ্রিক পুরাণের টাইটান চরিত্র অ্যাটলাসের একটি রেফারেন্স বা ইঙ্গিত। পৌরাণিক গল্পে অ্যাটলাসকে তার কাঁধে স্বর্গীয় গোলক বা আকাশ ধরে রাখার শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে এবং সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ছবিগুলোতে তাকে পৃথিবীর গোলক কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প এই ছবির মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন অ্যাটলাসের মতোই তিনিও পুরো বিশ্বের বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন। তবে গ্রিক পুরাণে অলিম্পিয়ান দেবতাদের বিরুদ্ধে অন্য টাইটানদের সঙ্গে বিদ্রোহে যোগ দেওয়ার শাস্তি হিসেবে অ্যাটলাসকে এই চিরন্তন পরিশ্রমের সাজা দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাম্প এই পোস্টের সঙ্গে কোনো ক্যাপশন বা লেখা দেননি। তাই ছবির মাধ্যমে তিনি ঠিক কী বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পরদিন ইরান ড্রোন সংরক্ষণাগারে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর ওই প্রতিশোধমূলক হামলার পরদিনই ট্রাম্প এই ছবি পোস্ট করলেন।

এর পাশাপাশি শনিবার ট্রাম্প আরো একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি নিজের ২০ বছর বয়সের একটি ছবির সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ১৮ বছর বয়সের একটি ছবির তুলনা করেছেন। ট্রাম্পের নিজের ছবিটি ১৯৬৪ সালের, যখন তিনি নিউ ইয়র্ক মিলিটারি একাডেমিতে পড়ার সময় সামরিক ধাঁচের ইউনিফর্ম পরা ছিলেন। অন্যদিকে ওবামার যে ছবিটি তিনি বেছে নিয়েছেন, সেখানে তার মুখে মারিজুয়ানার জয়েন্ট দেখা যাচ্ছে। ছবিটি ওবামা যখন অক্সিডেন্টাল কলেজে পড়তেন, তখনকার। এই বিষয়ে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট হোয়াইট হাউজের কাছে মন্তব্য চেয়ে অনুরোধ পাঠিয়েছে।

ট্রাম্প নিজেকে ঈশ্বরের মতো কোনো চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে ছবি পোস্ট করার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রুথ সোশ্যালে তার একটি ছবি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ওই ছবিতে দেখা গিয়েছিল, তিনি সাদা রঙের যাজকের পোশাক এবং গলায় লাল রঙের স্টোল পরে আছেন। তার হাত থেকে আলো বের হচ্ছে এবং তিনি হাসপাতালে বিছানায় থাকা একজন অসুস্থ মানুষকে সুস্থ বা আশীর্বাদ করার জন্য ডান হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আর একজন নার্স, একজন নারী, একজন অভিজ্ঞ সেনা ও একজন মার্কিন সেনা সদস্য বিস্ময় নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছেন। ট্রাম্পের মাথার ওপর সূর্যের মধ্যে মার্কিন সেনাদের একটি দল ভাসছে, যার মধ্যে একজনকে মেক সুট পরা বলে মনে হচ্ছিল। আর মাথার ওপর দিয়ে তিনটি জেট বিমান উড়ে যাচ্ছে, যার দুটি প্রায় সংঘর্ষের মুখোমুখি অবস্থায় ছিল।

এআই দিয়ে তৈরি ওই ছবিটির কারণে ট্রাম্পের অনুসারী কিছু রিপাবলিকানও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তারা সরাসরি নিজেকে যিশুর সঙ্গে তুলনা করাকে পবিত্রতা লঙ্ঘন হিসেবে দেখেছিলেন।

ক্রিশ্চিয়ান ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ডেভিড ব্রোডি সে সময় লিখেছিলেন, ‘এটি অনেক বেশি হয়ে গেছে। এটি সীমা অতিক্রম করেছে। একজন সমর্থক তার মিশনকে সমর্থন করেও এই ছবি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।’

সমালোচনার মুখে ছবিটি মুছে ফেলার পর ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনি এর মাধ্যমে কী বোঝাতে চেয়েছিলেন। তখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি নিজেকে যিশুর সঙ্গে তুলনা করতে চাননি, বরং তিনি ভেবেছিলেন ছবিটি তাকে একজন ডাক্তার হিসেবে দেখাচ্ছে।

ট্রাম্প ওই সময় বলেছিলেন, ‘এটি মূলত একজন ডাক্তার হিসেবে মানুষকে সুস্থ করে তোলার ছবি। আর আমি মানুষকে সুস্থ করি। আমি মানুষকে অনেক বেশি ভালো রাখি।’

সিবিএস নিউজকে ছবি মুছে ফেলার কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি চান না এই ছবি দেখে কেউ বিভ্রান্ত হোক। কারণ মানুষ এটি দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছিল।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও