
ভারতভিত্তিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্তর্জাতিক অভিযানে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার তারা জানায়, কানাডায় এক প্রভাবশালী শিখ নেতাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগেও গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েকজন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিনের তদন্তে তারা এমন অপরাধ চক্রগুলোর তথ্য সংগ্রহ করছিল। অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গুলি, হামলা, জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে যে তারা ভারতের কারাগারে থেকেও নিজেদের আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র পরিচালনা করতেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ১০ জন ছাড়া বাকিদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসায়লি বলেন, ‘যেসব আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্র ভয়, মাদক ও সহিংসতা ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে বিচার এবং ফেডারেল সরকারের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা হবে।’
মঙ্গলবার প্রকাশ করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা অন্যতম ঘটনা হলো ২০২৩ সালে কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড।
মঙ্গলবার প্রকাশ করা অভিযোগপত্রে উল্লিখিত অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালে কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যা। পাঞ্জাব বংশোদ্ভূত নিজ্জর ছিলেন ‘খালিস্তান’ আন্দোলনের একজন পরিচিত কর্মী। তিনি শিখদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারতের পাঞ্জাবের ৩৩ বছর বয়সী লরেন্স বিষ্ণোই কারাগারে বসেই নিজ্জর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কানাডা তার সংগঠনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
কর্মকর্তাদের দাবি, বিষ্ণোই প্রকাশ্যে নিজেকে একজন ধর্মপ্রাণ ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে তুলে ধরলেও এই ভাবমূর্তি ব্যবহার করে ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে নিজের অপরাধী চক্রের জন্য সদস্য ও সহযোগী সংগ্রহ করতেন।
তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে তিনি বহু দেশে ব্যাপক একটি অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন, যার মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, খুন, গুলি, হামলা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক পাচার, মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন ভারতের পাঞ্জাবের ৩৮ বছর বয়সী জগ্গু ভগবানপুরিয়াও। তিনি ভারতে কারাবন্দি একজন গ্যাং নেতা এবং একসময় বিষ্ণোইয়ের সহযোগী ছিলেন, পরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। কর্মকর্তাদের মতে, ভগবানপুরিয়া নিজের অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছেন, যার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেে এক হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে।
ভগবানপুরিয়ার সঙ্গে আরো ১৬ জনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাড়াটে হত্যাকাণ্ড, মাদক পাচার, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের ৫৭ বছর বয়সী রবিন্দর সিং ধান্ডার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি এমন একটি বড় মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যারা প্রতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় শত শত কেজি কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচার করত।
এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি বলেন, ‘আজকের সমন্বিত অভিযান তিনটি ভয়ংকর আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনের মূল ভিত্তিতে আঘাত করেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার মাধ্যমে পরিবারগুলোকে আতঙ্কিত করেছে, সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে।’