
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের পাবলিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)ভিত্তিক ফিচার চালু করেছে মেটা। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে কোনো ব্যবহারকারীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট যদি পাবলিক থাকে, তাহলে অন্য যেকোনো ব্যক্তি তার @username ব্যবহার করে এআই-এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তির মুখাবয়বের নতুন ছবি তৈরি করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হবে না এবং এমন ছবি তৈরি হলে তাকে কোনো ধরনের নোটিফিকেশনও পাঠানো হবে না।
২০২৬ সালের ৭ জুলাই মেটা তাদের নিজস্ব এআই ইমেজ জেনারেশন মডেল ‘মিউজ ইমেজ (Muse Image)’ উন্মুক্ত করে। প্রতিষ্ঠানটি এটিকে তাদের সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে উপস্থাপন করলেও, গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি অনেকের নজর এড়িয়ে যায়।
মেটার তথ্য অনুযায়ী, এই ফিচারটি সরাসরি Meta AI, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে সমন্বিত। কোনো ব্যবহারকারী এআই ইমেজ জেনারেটরে একটি নির্দেশনা (প্রম্পট) দেওয়ার সময় যদি কোনো পাবলিক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের @username উল্লেখ করেন, তাহলে সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই অ্যাকাউন্টের প্রকাশ্য ছবিগুলোকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে নতুন ছবি তৈরি করতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় ব্যবহারকারীর অজান্তেই।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, মেটা এই সুবিধাটি ডিফল্টভাবে চালু রেখেছে। অর্থাৎ, যাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পাবলিক এবং ডিফল্ট সেটিংস অপরিবর্তিত রয়েছে, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন। মেটা ব্যবহারকারীদের আলাদা কোনো নোটিফিকেশন পাঠিয়ে এই পরিবর্তনের বিষয়ে অবহিত করেনি কিংবা পূর্বানুমতিও নেয়নি। বরং যারা এই সুবিধা বন্ধ করতে চান, তাদেরকেই নিজ উদ্যোগে সেটিংসে গিয়ে অপশনটি বন্ধ করতে হবে।
মেটার সহায়তা পাতায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যবহারকারীর ছবি ব্যবহার করে এআই-নির্ভর কনটেন্ট তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনো নোটিফিকেশন পাবেন না। ফলে কেউ তার ছবি ব্যবহার করে কতবার বা কী ধরনের এআই ছবি তৈরি করেছে, তা জানার কোনো উপায় ব্যবহারকারীর থাকবে না।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সুবিধা সৃজনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও অপব্যবহারের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি, সহকর্মী, শিক্ষার্থী বা পরিচিত মানুষের মুখাবয়ব ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া ছবি তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। যদিও মেটা জানিয়েছে, তাদের কনটেন্ট নীতিমালা এসব অপব্যবহার ঠেকাতে কাজ করবে, তবে সমালোচকদের মতে, এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে।
যেসব ব্যবহারকারী এই সুবিধা বন্ধ করতে চান, তারা ইনস্টাগ্রামের Settings থেকে Sharing and Reuse বিভাগে গিয়ে "Allow people to use your content on Instagram and with AI features on Meta" অপশনের অধীনে থাকা Posts এবং Reels টগল বন্ধ করতে পারবেন। তবে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর হবে। এর আগে যদি কারও ছবি ব্যবহার করে এআই-নির্ভর কোনো ছবি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে না।
গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে মেটার এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীদের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়াই এমন একটি ফিচার ডিফল্টভাবে চালু করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে যাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পাবলিক, তাদের নিজ নিজ গোপনীয়তা সেটিংস পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।