আইন- আদালত

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ মামলার রায় ১৪ জুলাই

15995_IMG_7380.jpeg

দেশে-বিদেশে আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে নববধূর স্বামীকে বেধে রেখে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর গ্যাংরেপ (সংঘবদ্ধ ধর্ষণ) মামলা রায় আগামী ১৪ জুলাই মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।

দীর্ঘ ৫ বছর পর ১৪ জুলাই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার।

বহুল আলোচিত এই মামলায় বুধবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন (আগামী ১৪ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আবুল হোসেন।

মামলার আসামিরা হলেন- নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ক্যাডার সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান।

আসামীরা সবাই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক গডফাদার পলাতক রনজিত সরকারের ক্যাডার হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গৃহবধূ, তাঁর স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন। তবে সাক্ষ্যগ্রহণকালে বাদীর বিভ্রান্তিমূলক সাক্ষ্য দেওয়া নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলার এজাহারের বর্ণনামতে,২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বামীকে নিয়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন নির্যাতনের শিকার তরুণী (২০)। ফেরার সময় তারা গাড়ি থামিয়েছিলেন নগরের টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে।

স্ত্রীকে প্রাইভেটকারে রেখে স্বামী পার্শ্ববর্তী দোকানে গিয়েছিলেন। ওই সময় প্রাইভেটকারটি ঘিরে ধরে কয়েকজন তরুণ।

এজাহারে আরো বলা হয়,পরে প্রাইভেটকারসহ ওই দম্পতিকে তারা নিয়ে যায় বালুচর এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ভেতরে। সেখানে স্বামীকে বেধে স্বামীর সামনেই গাড়ির ভেতর সংঘবদ্ধভাবে নববিবাহিতা তরুণীকে ধর্ষণ করে ছয় ছাত্রলীগ ক্যাডার। পরে তাদের মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয় ধর্ষকরা। আটকে রাখে তাদের গাড়িও। ভিকটিমের বাড়ি দক্ষিণ সরমা এলাকায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‍্যাব অভিযান চালিয়ে ছয়জন নাম উল্লেখিত ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ৬ জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। আওয়ামীলীগ আমলে তারে রক্ষায় বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হয়েছে।

২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও