তথ্য ও প্রযুক্তি

শিশুদের আসক্ত করার অভিযোগ, $১৬.৬৮ বিলিয়ন দিয়ে সমঝোতায় রাজি মেটা

16487_meta-1-1667998381.jpeg

শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করে তোলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে সমঝোতা করতে সম্মত হয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে শিশুদের ক্ষতির অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিচারিক লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলায় মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, শিশু-কিশোরদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানটি জেনেশুনে এবং পরিকল্পিতভাবে আসক্তি তৈরির মতো বিভিন্ন ফিচার ডিজাইন করেছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, মেটা কোনো ধরনের অনিয়মের কথা স্বীকার করেনি। তবে মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শিশু-কিশোরদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় শিশুদের জন্য দৈনিক ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ এবং রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে বয়সসীমা নির্ধারিত কনটেন্টে শিশুদের প্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা বলেন, এই সমঝোতা শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আরও নিরাপদ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং শিশু ও তাদের পরিবারের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থার মধ্যে থাকবে ব্যবহারের সময়সীমা, স্কুল চলাকালে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, রাতের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অ্যাপ ব্যবহারে বাধা এবং প্লাস্টিক সার্জারি-ধরনের ফিল্টার নিষিদ্ধ করাসহ আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ।

এই সমঝোতার আওতায় ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউ মেক্সিকো এবং ওয়াশিংটন ডিসির করা পৃথক মামলাও নিষ্পত্তি হবে। এসব মামলায় ২০১৮ সালের কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পর্কিত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। ওই কেলেঙ্কারিতে ফেসবুকের লাখ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল। এসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও অঞ্চলগুলোকে আরও ৪৫৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে।

সমঝোতার খবর প্রকাশের পর মেটার শেয়ারের দাম সামান্য কমেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, অঞ্চল ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ৫২ জন অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তারা কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন মানদণ্ড তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

মেটা আরও বলেছে, কিশোরদের নিরাপদ ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ উদ্যোগে টিকটক ও ইউটিউবকেও যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যাতে কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে স্বাস্থ্যকর ও দায়িত্বশীল পরিবেশ তৈরি করা যায়।

এদিকে মেটার পাশাপাশি গুগলের ইউটিউব, টিকটকের মালিক বাইটড্যান্স এবং স্ন্যাপসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও শিশু-কিশোরদের প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখার মতো ফিচার তৈরির অভিযোগে হাজার হাজার মামলার মুখোমুখি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, স্কুল জেলা ও ব্যক্তি এসব মামলা করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নকশা শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করছে, যার ফলে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, শারীরিক গঠন নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং সামগ্রিকভাবে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং শিশুদের সুরক্ষায় তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে দাবি করেছে।

এই মামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় আরও কঠোর নিয়ম চালুর জন্য রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। শিশু-কিশোরদের ওপর অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মানসিক প্রভাব নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যেই মেটার এই বড় অঙ্কের সমঝোতা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও