আফ্রিকার দেশগুলোতে থাকা ব্রিটিশ সৈন্যরা আইন ভঙ্গ করছে। তারা অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় নারীদের সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হচ্ছে। পাশাপাশি নারীদের ধর্ষণ ও নির্যাতন চালাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর এক অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে এমনি ভয়াবহ তথ্য। খবর আরটির।
প্রতিবেদনে রাশিয়ার সম্প্রচার মাধ্যমটি জানিয়েছে, কেনিয়ার একটি ঘাঁটিতে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনারা এখনো লেনদেনভিত্তিক যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছেন, যা পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে যৌন শোষণ ও নির্যাতন রোধে চালু করা আইন লঙ্ঘন করছে।
দুই বছরের তদন্তে দেখা গেছে, কেনিয়ার নানিউকিতে ব্রিটিশ আর্মি ট্রেনিং ইউনিট ঘাঁটিতে এ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
গত বছরের অক্টোবরে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়। এর আগে ওই ঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনারা স্থানীয় নারীদের অর্থের বিনিময়ে যৌন সেবা নিচ্ছে, ধর্ষণ করছে এবং নির্যাতন চালাচ্ছে এমন অভিযোগ উঠে।
২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিদেশে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের যৌন সেবার জন্য অর্থ প্রদান নিষিদ্ধ করে। এমনটা তারা করেছিল সেনাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ার কারণে।
কেনিয়ায় অবস্থান করা ব্রিটিশ সেনাদের কর্মকাণ্ড বহুদিন ধরে সমালোচনার মুখে রয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সি অ্যাগনেস ওয়ানজিরু হত্যাকাণ্ড অন্যতম—যিনি ব্রিটিশ সেনাদের সঙ্গে এক রাত পার্টি করার পর নিখোঁজ হন। কয়েকদিন পরে তার বিকৃত দেহ ঘাঁটির কাছের একটি হোটেলের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়।
গত জুনে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কেনিয়ায় এক সার্ভিস পার্সনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রতিরক্ষা গুরুতর অপরাধ তদন্ত বিভাগের আওতায় তদন্তাধীন। অভিযুক্ত সেনা সদস্যকে ধর্ষণের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান জেনারেল রোলি ওয়াকার বলেন, ‘এ ধরণের কর্মকাণ্ড কখনোই হওয়া উচিত নয়। সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ আচরণগত মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সেনাবাহিনীতে যৌন শোষণ ও নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। এটি ব্রিটিশ সেনা হওয়ার অর্থের সম্পূর্ণ বিপরীত। ’
এদিকে, কেনিয়ায় ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগের আলাদা তদন্তও চলছে।