সারা বিশ্ব

ইসরায়েলে এফ-৩৫ যন্ত্রাংশ রপ্তানির লাইসেন্স পুনর্মূল্যায়ন করবে নেদারল্যান্ডস

12064_IMG_2095.jpeg

নেদারল্যান্ডসের সর্বোচ্চ আদালত শুক্রবার এক রায়ে দেশটির সরকারকে ইসরায়েলে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ রপ্তানির লাইসেন্স পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের আশঙ্কায় স্থগিত হওয়া এ রপ্তানি অনুমোদন পুনর্বিবেচনা করার সময় লাইসেন্স স্থগিতই থাকবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

হেগের আপিল আদালত গত ফেব্রুয়ারিতে এফ-৩৫ যন্ত্রাংশ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, এই যন্ত্রাংশ গাজায় আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের কাজে ব্যবহার হতে পারে।

তবে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানান, হেগের আপিল আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টেইন পোলাক জানান, ডাচ সরকারের হাতে এখন লাইসেন্স পুনর্মূল্যায়নের জন্য ছয় সপ্তাহ সময় রয়েছে।২০২৩ সালের শেষের দিকে তিনটি মানবাধিকার সংগঠন এ মামলা দায়ের করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, ইসরায়েলে এফ-৩৫ এর যন্ত্রাংশ পাঠিয়ে নেদারল্যান্ডস কার্যত যুদ্ধাপরাধে সহযোগিতা করছে।

যদিও ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর আগে জেলা আদালত রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দিলেও, আপিল আদালত তা বাতিল করে। সরকার এরপর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে জানায়, বৈদেশিক নীতি সরকারের এখতিয়ারভুক্ত, আদালতের নয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, নেদারল্যান্ডস মার্কিন মালিকানাধীন এফ-৩৫ এর তিনটি আঞ্চলিক যন্ত্রাংশ গুদামের একটি।সরকারের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, নেদারল্যান্ডস থেকে রপ্তানি বন্ধ হলেও যুক্তরাষ্ট্র অন্যত্র থেকে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করবে। রায়ের সময় নেদারল্যান্ডসে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে এবং আগামী ২৯ অক্টোবর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য সীমিত বা স্থগিত করেছে। গত বছর যুক্তরাজ্য কিছু অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করে, স্পেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দেয়। স্লোভেনিয়া প্রতীকীভাবে সব ধরনের অস্ত্র আমদানি ও রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে।ফ্রান্স ও বেলজিয়ামেও এ নিয়ে মামলা চলছে।ইসরায়েলের গাজা অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ৬৬ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। নিহতদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও