সারা বিশ্ব

স্টারমারের উপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, লন্ডন মেয়র সাদিক খানের ওপরও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ

14523_ChatGPT Image Mar 3, 2026, 07_29_30 PM.jpeg

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুক্তরাজ্য ও তার নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি ইরানবিরোধী হামলার জন্য  বিমানবেস ব্যবহার করতে দিতে প্রধানমন্ত্রী কীর স্টারমার যখন দ্বিধা প্রকাশ করেন, তখন ট্রাম্প তার প্রচণ্ড অসন্তোষ প্রকাশ করেন। স্টারমারকে তিনি ‘নট উইনস্টন চার্চিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং যুক্তরাজ্যের অ-সহযোগিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প বিশেষভাবে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ডিয়েগো গারসিয়ার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যের এই দ্বীপে অবতরণের ব্যবস্থা করতে অসুবিধা হয়েছে এবং ‘অত্যন্ত অ-সহযোগী’ আচরণ করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “এই দ্বীপের জন্য অনেক দিন ধরে সমাধান করতে হয়েছে। সহজে অবতরণ করা যেত, কিন্তু যুক্তরাজ্যের কারণে অতিরিক্ত ঘণ্টা উড়তে হয়েছে। এটি কোনো চার্চিলের যুগ নয়।”

এছাড়াও, ট্রাম্প লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “আপনার লন্ডনের মেয়র খুবই অযোগ্য। সেখানে শারিয়া আদালত রয়েছে, যা আইন প্রয়োগ করবে না।” তবে যুক্তরাজ্যে বাস্তবে কোনো শারিয়া আদালত নেই। ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার সঙ্গে মিলে না।

ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের শক্তি ও অভিবাসন নীতিকেও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি যুক্তরাজ্যকে ভালোবাসি। আমার মা এখানে জন্মেছেন। তবে তারা শক্তি ও অভিবাসন নীতিতে ভ্রান্ত পথে আছে। তারা বায়ু ও নবায়নযোগ্য শক্তিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করছে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্ত অনেক সময় তার নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে মিশে যায়, বিশেষ করে উইন্ড ফার্ম নির্মাণ নিয়ে।

ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য কেবল স্টারমার এবং খানের বিরুদ্ধে নয়, বরং যুক্তরাজ্যের সামরিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর তার অসন্তোষকেও প্রকাশ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং যুক্তরাজ্য-মার্কিন সম্পর্কের জন্য নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে।

এইবারের আক্রমণ ট্রাম্পের সাবেক এবং বর্তমান নেতাদের ওপর তার ব্যাক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও