
রাশিয়া জুড়ে হঠাৎ করে বেজে উঠল সতর্কতামূলক সাইরেন। দেশের ১১টি টাইম জোনজুড়ে একযোগে এই সতর্ক সংকেত শোনা যায়। নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত টেলিভিশন বা রেডিও চালু করে সরকারি বার্তা শোনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পর্দায় ভেসে ওঠে জরুরি ঘোষণা—“সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি! জনসতর্কতা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে। অনুগ্রহ করে শান্ত থাকুন।”
ইউরাল অঞ্চলের শহর Yekaterinburg-এ একটি টিভি অনুষ্ঠান মাঝপথে বন্ধ করে জরুরি বার্তা সম্প্রচার করা হয়। সরকারিভাবে এটিকে নিয়মিত সতর্কতা ব্যবস্থার পরীক্ষা বলা হলেও, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে Vladimir Putin-এর নেতৃত্বাধীন রাশিয়ার চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এই মহড়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে সাম্প্রতিক এক আলোচনায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনী নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন প্রখ্যাত উপস্থাপক ও ক্রেমলিনপন্থী ভাষ্যকার Vladimir Solovyov। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্রিটেন আদৌ রাশিয়ার সামরিক শক্তির মোকাবিলা করার অবস্থানে আছে কি না। তার বক্তব্যে দাবি করা হয়, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার, যাদের “দুই মাসের মধ্যেই প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার করে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা সম্ভব”।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সামরিক বিশ্লেষক আন্দ্রেই ক্লিন্তসেভিচও ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ব্রিটিশ বাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত লজিস্টিক সহায়তা নেই এবং ইউক্রেনে সেনা মোতায়েন করা হলে তারা দ্রুত রাশিয়ার নির্ভুল হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer ইউক্রেনে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে ব্রিটিশ সেনা পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এই প্রস্তাবকে ব্যঙ্গ করে রুশ টেলিভিশনে বলা হয়, এমন পদক্ষেপ ব্রিটেনে বিপুল সংখ্যক কফিন ফেরত যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করবে এবং তখন জনগণ প্রশ্ন তুলবে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাশিয়ার সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। যদিও ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে রুশ বাহিনী, তবুও সামরিক শক্তির দিক থেকে দেশটি এখনও বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সতর্কতা মহড়া এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে যুদ্ধসংক্রান্ত কড়া ভাষ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি ছিল কেবলমাত্র নিয়মিত জনসতর্কতা ব্যবস্থার পরীক্ষা, এর সঙ্গে তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পদক্ষেপের সম্পর্ক নেই।