
সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের আকরোটিরি ঘাঁটিতে রোববার গভীর রাতে আঘাত হানা ড্রোনটি ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ড্রোনটি দেখতে ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে ইরানের বহুল ব্যবহৃত ‘শাহেদ’ মডেলের মতো বলে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাজ্যের Ministry of Defence-এর এক মুখপাত্র জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ড্রোনটি সরাসরি ইরান থেকে ছোড়া হয়নি। তবে এটি ‘শাহেদ-সদৃশ’ হওয়ায় এর নকশা ও সক্ষমতার সঙ্গে ইরানের সস্তায় উৎপাদিত ড্রোন প্রযুক্তির মিল রয়েছে। ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া এগুলো ব্যাপক হারে ব্যবহার করেছে।
সাইপ্রাসের RAF Akrotiri ঘাঁটিটি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। সাম্প্রতিক হামলার পর ঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রয়্যাল নেভির ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই হেলিকপ্টারগুলো নজরদারি ও প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে সক্ষম।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।