সারা বিশ্ব

৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ

14919_IMG_9204.jpeg

দীর্ঘ ৫৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে মানুষ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সফলভাবে তাদের ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশনের উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে।

ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ৩২ তলা বিশিষ্ট শক্তিশালী রকেটটি চারজন নভোচারীকে নিয়ে মহাকাশে ডানা মেলে। এই মাহেন্দ্রক্ষণ প্রত্যক্ষ করতে কেপ ক্যানাভেরালে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার উৎসুক মানুষ।

আর্টেমিস-২ মিশনে অংশ নিচ্ছেন অভিজ্ঞ চার মহাকাশচারী—মিশন কমান্ডার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিনা কচ ও কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।

উৎক্ষেপণের আগে কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা সমগ্র মানবজাতির পক্ষ থেকে এই চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছি।’

আর্টেমিস-২ মূলত একটি পরীক্ষামূলক মিশন। মহাকাশযানটি প্রথমবারের মতো মানুষ বহন করায় এর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে।

এবারের মিশনের কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন, তবে এবার তারা চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবেন না। ডকিং সিমুলেশনের মাধ্যমে মহাকাশযানটির ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা যাচাই করা হবে। প্রায় ১০ দিনের এই মিশন শেষে নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

মিশন ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন নভোচারীদের বিদায় জানানোর সময় বলেন, ‘রিড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা ও জেরেমি—আপনারা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন নতুন প্রজন্মের আশা ও স্বপ্ন। শুভকামনা আপনাদের।’

এই মিশনের সফল সমাপ্তি মূলত পরবর্তী মিশন ‘আর্টেমিস-৩’-এর পথ প্রশস্ত করবে, যার মাধ্যমে মানুষ আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখার স্বপ্ন দেখছে।

 

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও