সারা বিশ্ব

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে: পুতিন

15361_IMG_2696.jpeg

ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘শেষের পথে’ বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এমনকি শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হলে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকে বসতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার মস্কোর রেড স্কয়ারে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পুতিন।

এর আগে কুচকাওয়াজে দেওয়া ভাষণে তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। যদিও এবারের বিজয় দিবসের আয়োজন ছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেশ সীমিত।

পুতিনের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের যুদ্ধবিরতি এবং ১ হাজার বন্দিবিনিময়ে সম্মত হয়েছে। এসব ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক অগ্রগতির নতুন আশা জাগিয়েছে।

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে পুতিন ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের প্রশংসা করে বলেন, তাদের এই অভিযান একটি ‘ন্যায়সংগত কাজ’।

এই যুদ্ধকে তিনি ‘পুরো ন্যাটো জোটের সমর্থনপুষ্ট একটি আগ্রাসী শক্তির’ বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, ‘বিজয় সব সময় আমাদের ছিল এবং আমাদেরই থাকবে।’

পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন এই যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা ‘গ্লোবালিস্ট এলিট’দের দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর ন্যাটো পূর্ব দিকে বিস্তৃত হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বলয়ে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমি মনে করি বিষয়টি (যুদ্ধ) শেষের পথে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে রাশিয়া ও ইউক্রেন শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন দিনের যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিবিনিময়ে সম্মত হয়। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টে জানান, এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং উভয় পক্ষ ১ হাজার করে বন্দি বিনিময় করবে।

ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেন, এটি একটি দীর্ঘ ও প্রাণঘাতী যুদ্ধের সমাপ্তির শুরু হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই বিবৃতির পর একটি ঘোষণাপত্র জারি করেন, যেখানে তিনি বিদ্রুপাত্মকভাবে রাশিয়াকে তাদের বিজয় দিবস পালনের অনুমতি এবং রেড স্কয়ারে ইউক্রেনীয় হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

ক্রেমলিন অবশ্য বিষয়টিকে একটি ‘বাজে রসিকতা’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে।

জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে পুতিন বলেন, শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকে বসতে পারেন।

পুতিন স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি হতে হবে একটি চূড়ান্ত চুক্তি, কোনো আলোচনার বৈঠক নয়।’

উল্লেখ্য, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে উভয় পক্ষের কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং ইউক্রেনের বিশাল এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও এই যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পুতিন জানান, আলোচনার জন্য তার ব্যক্তিগতভাবে জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডারকে বেশি পছন্দ।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও