ইসলাম

মধ্যপ্রাচ্যেসহ প্রাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আজহা

15559_IMG_4237.jpeg

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বুধবার (২৭ মে) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।

বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৩ মিনিটে মসজিদে হারামে শায়খ বালিলার ইমামতিতে এবং মসজিদে নববিতে শায়খ আহমদ হুজাইফির ইমামতি ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

দয়াময় আল্লাহতায়ালার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখো মুসলমান ঈদের নামাজ আদায় শেষে পশু কোরবানি করছেন। অন্যদিকে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা পবিত্র হজের অবশিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন।

এর আগে মঙ্গলবার হজের অন্যতম প্রধান রোকন ‘উকুফে আরাফা’ বা আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের ঐতিহাসিক মুহূর্ত সম্পন্ন করেন বিশ্ব উম্মাহর ১৭ লাখেরও বেশি হাজি। ইহরাম পরিহিত শুভ্রবসনা আল্লাহর মেহমানদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত এলাকা।

 

মঙ্গলবার দুপুরে নামিরা মসজিদ থেকে বিশ্ব মুসলিমের উদ্দেশে হজের ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করেন প্রবীণ আলেম ও মসজিদে নববির খতিব শায়খ আলী আল হুজাইফি। খুতবায় তিনি পরকালের মুক্তি, তাকওয়া অর্জন এবং মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাসহ বিশ্বের ৫০টি ভাষায় এই খুতবার লাইভ অনুবাদ সম্প্রচার করা হয়।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থান শেষে সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায়ের জন্য মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন এবং মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করেন তারা। বুধবার (২৭ মে) ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা পুনরায় মিনায় ফিরে আসেন এবং বড় শয়তানকে (জামারাতুল আকাবা) পাথর নিক্ষেপ করেন। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং কাবা শরিফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজের মূল দায়িত্বসমূহ সম্পন্ন করছেন।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান, জর্ডান এবং ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত রাষ্ট্রে আজ উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও বর্বরতার মধ্যেও ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সাধারণ মুসলমান ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন এবং বিশ্ব মুসলিমের সহযোগিতা ও মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করেছেন।

লাখো হাজির সার্বিক নিরাপত্তা এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যেন আল্লাহর মেহমানরা নির্বিঘ্নে হজ পালন করতে পারেন, সেজন্য সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এবার সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও