আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে কী আছে?

15793_IMG_5792.jpeg

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করেছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ করা, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি করা।  

চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ অবিলম্বে সামরিক সংঘাত ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। এর আওতায় উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক অবরোধও তুলে নেওয়া হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান।  

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের জব্দকৃত বা স্থগিত আর্থিক সম্পদে প্রবেশাধিকারের সুযোগও দেওয়া হতে পারে। খসড়া পরিকল্পনায় ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য বড় আকারের আন্তর্জাতিক সহায়তার কথাও উল্লেখ রয়েছে।  

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনরায় ঘোষণা করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না। দেশটি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) তত্ত্বাবধানে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আরও স্বচ্ছতা প্রদর্শনে সম্মত হয়েছে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে পরবর্তী আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে নতুন আলোচনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাধ্যতামূলক শান্তি চুক্তি প্রণয়নের চেষ্টা করা হবে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হবে, যা সমঝোতার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।  

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এখনো অনেক জটিল বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চূড়ান্ত সীমা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের গতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো নিয়ে সামনে আরও কঠিন আলোচনা অপেক্ষা করছে।  

এই চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমতে পারে, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।  


 

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও