আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্যনীতিতে ইইউর চেয়ে বেশি শুল্ক গুনবে যুক্তরাজ্য!

16142_260625-trump-burnham-rs-468917.jpeg

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন বৈশ্বিক শুল্কনীতির ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তুলনায় বেশি আমদানি শুল্ক দিতে হবে যুক্তরাজ্যকে। নতুন এই ব্যবস্থায় ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির ব্যবসায়িক নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্র ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের পর চলতি বছরের শুরুতে আগের শুল্কব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।

তবে নতুন নিয়মে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাজ্যকে এই ১০ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ বা এমএফএন নীতির আওতায় প্রযোজ্য অতিরিক্ত শুল্কও পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া ১০ শতাংশ শুল্কের মধ্যেই ডব্লিউটিওর প্রযোজ্য শুল্ক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ইইউভুক্ত দেশগুলোর পণ্যের ওপর মোট শুল্কের বোঝা যুক্তরাজ্যের তুলনায় কম হবে।

ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের বাণিজ্যনীতি বিভাগের প্রধান উইলিয়াম বেইন বলেন, ইইউ এবং অন্যান্য যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনামূলক ভালো বাণিজ্য চুক্তি করতে পেরেছে, তাদের তুলনায় যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, নতুন শুল্কব্যবস্থা ব্রিটিশ রপ্তানিকারকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে যুক্তরাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, এই ঘোষণার ফলে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের ওপর কার্যকর শুল্কের ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি বহাল রয়েছে এবং নতুন ব্যবস্থার ফলে ব্রিটিশ হুইস্কি ও চিকিৎসা প্রযুক্তি খাতের পণ্যের ওপর শূন্য শুল্কের সুবিধা মিলবে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক।

এদিকে নতুন শুল্ক ঘোষণার পরও যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে এশিয়ার বাজারে এর প্রভাব ছিল স্পষ্ট। জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতি বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়ার যে প্রত্যাশা ছিল, নতুন শুল্কব্যবস্থায় তার সুফল অনেকটাই সীমিত হয়ে যেতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও