
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড (Pride) মিছিলকে ঘিরে ভয়াবহ ভ্যান হামলাকে ‘ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী হামলা’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট। হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জার্মান কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার প্রধান সন্দেহভাজন ২১ বছর বয়সী জার্মান নাগরিক আবদুল বাল্লুট। তার লেবানিজ বংশোদ্ভূত পরিচয় রয়েছে। হামলার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং তাকে ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। বিভিন্ন রেলস্টেশন, বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডোব্রিন্ট জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টার কিছু আগে হামলাটি শুরু হয়। প্রথমে একটি গাড়ি দিয়ে ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা দেওয়া হয়। এতে একজন নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। কর্মকর্তাদের ধারণা, অস্ত্রটি একটি মাচেটি বা বড় ধরনের ছুরি হতে পারে।
তবে হামলাটি প্রাইড উৎসবের মূল স্থানের ভেতরে ঘটেনি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলটি মূল আয়োজনের নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে কয়েকশ মিটার দূরে ছিল। বার্লিনের মেয়র কাই ওয়েগনার বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী থাকায় হামলাকারী সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন আবদুল বাল্লুট আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। এর আগে বার্লিনের একটি আদালত তাকে এক বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল, তবে পরে সেই সাজা স্থগিত করে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, বাল্লুট আগে থেকেই উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার মধ্যে উগ্রপন্থার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেন, হামলার উদ্দেশ্য ও পেছনের কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে।
জানা গেছে, আবদুল বাল্লুট ২০০৪ সালে জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ২০০২ সালে জার্মান নাগরিকত্ব লাভ করেন। বর্তমানে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য দেশজুড়ে অভিযান চলছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিক তদন্তে এটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।