
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে যান। প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসানের এই ঘটনা বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পায়।
আলজাজিরা বলেছিল, একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছেন। তার দেশত্যাগের পর সরকারি বাসভবন গণভবনে হাজারো মানুষ ঢুকে পড়েছে।
এএফপির খবরেও বোন রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর প্রকাশ করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল, নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে তিনি বাংলাদেশ ছেড়েছেন। হাজারো মানুষ গণভবনে ঢুকে পড়েছে।
ভারতের আনন্দবাজার-এর খবরে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনা তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ঢাকার বাসভবন তথা গণভবন ছেড়েছেন। তাকে হেলিকপ্টারে করে ‘নিরাপদ’ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারটি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার উদ্দেশে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছেন এয়ার কমোডর আব্বাস। তিনি ১০১ স্কোয়াড্রনের সদস্য।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনাকে বহনকারী হেলিকপ্টার দিল্লির গাজিয়াবাদে অবস্থিত হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে স্থানীয় সময় ৫টা ৩৬ মিনিটে। সেখানে তাকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা স্বাগত জানান।
বিবিসি শিরোনাম করেছিল, ‘শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে উচ্ছ্বাস।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন এবং এতে দেশের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ আধিপত্যের অবসান ঘটেছে। তাঁর দেশত্যাগের পর রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষ উল্লাস প্রকাশ করে।
দ্য গার্ডিয়ান লিখেছিল, ‘পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, নিশ্চিত করলেন সেনাপ্রধান।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।
এনপিআর-এর শিরোনাম ছিল, ‘হাজারো ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে শেখ হাসিনার পতন, ১৫ বছরের শাসনের অবসান।’ তারা জানায়, কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন। সেনাপ্রধান তখন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান এবং সহিংসতার তদন্তের আশ্বাস দেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) লিখেছিল, ‘ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশ, শেখ হাসিনার পদত্যাগ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
সিএনএন শিরোনাম করেছিল, ‘সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতে চলে যান।’ প্রতিবেদনে সেনাপ্রধানের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
রয়টার্স জানায়, শত শত মানুষের প্রাণহানির পর সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগের কথা জানায়।
দ্য ডিপ্লোম্যাট লিখেছিল, ‘পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১৫ বছরের শাসনের অবসান।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা কারফিউ অমান্য করে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। সংস্থাটি ওই সময়ের সহিংসতায় বহু মানুষের প্রাণহানি, আহত হওয়া এবং ব্যাপক গ্রেপ্তারের বিষয়ও উল্লেখ করে। একই সঙ্গে তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ন্যায়বিচারের আহ্বান জানায়।