আন্তর্জাতিক

৯০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা সিইও এবার নিজেই চাকরিচ্যুত!

16432_SEI_308695646-c300.jpg

ক্রিসমাসের ঠিক আগে এক জুম কলে ৯০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘বেটার’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিশাল গার্গ। পাঁচ বছর পর এবার সেই সিইও নিজেই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট গার্গকে বেটারের সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক ড্যানিয়েল লুইসকে, যিনি এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিয়েছিলেন।

চাকরিচ্যুত হওয়ার পর গার্গ দাবি করেছেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এ ঘটনায় নিজেকে ‘প্রতারিত’ মনে করছেন। তার অভিযোগ, ড্যানিয়েল লুইস পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের প্রভাবিত করে সিইও পদটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

গার্গ বলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত নয় এবং তিনি বেটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো আশাবাদী। শেয়ারহোল্ডাররা তাকে সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বললে তিনি সেটি মেনে নিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তার দাবি, পরিচালনা পর্ষদ তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ভুল করেছে।

সাবেক এই সিইও ইতোমধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে তাকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে একজন আইনজীবীও নিয়োগ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, বেটার লাভজনক অবস্থায় না ফেরা পর্যন্ত বছরে মাত্র এক ডলার পারিশ্রমিকে সিইও হিসেবে কাজ করতেও তিনি প্রস্তুত। প্রতিষ্ঠান লাভজনক হয়ে উঠলে তিনি পদ ছেড়ে দেবেন বলেও জানিয়েছেন।

তবে গার্গের বিরুদ্ধে এবার আইনি অভিযোগও এনেছে বেটার। নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে করা অভিযোগে কোম্পানিটি দাবি করেছে, গার্গ তাকে সিইও পদে পুনর্বহাল করার জন্য শেয়ারহোল্ডারদের একটি জোট গড়ে তুলেছেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বাজারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। কোম্পানির অভিযোগ, এতে তিনি দুটি ফেডারেল সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছেন।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেটারের পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতভাবে গার্গকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পেছনে কোম্পানির ২০২২ সাল থেকে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি নিট লোকসান এবং শেয়ারমূল্য ৯০ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশাল গার্গ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন ২০২১ সালে। সে সময় ক্রিসমাসের কয়েক সপ্তাহ আগে একটি ভিডিও কলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রায় ৯০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেন তিনি। ওই কলটি এক কর্মী রেকর্ড করে ফেলেছিলেন এবং পরে সেটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

সেই কলের সময় গার্গ বলেছিলেন, এ সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য সহজ নয় এবং এর আগে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনি কেঁদেছিলেন। তবে কোম্পানিকে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে কর্মী ছাঁটাই প্রয়োজন ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

পরে একটি ব্লগ পোস্টে গার্গ আরও দাবি করেছিলেন, চাকরিচ্যুত কর্মীদের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন প্রতিদিন গড়ে মাত্র দুই ঘণ্টা কাজ করলেও আট ঘণ্টা বা তার বেশি সময়ের বেতন নিতেন। তাদের বিরুদ্ধে কোম্পানি ও গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। পরে গার্গ স্বীকার করেন, ওই বক্তব্য আরও ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যেত।

গণছাঁটাইয়ের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে গার্গকে সাময়িকভাবে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। তবে পরে তিনি আবার বেটারের নেতৃত্বে ফিরে আসেন।

২০২১ সালে ওই গণছাঁটাইয়ের পর কোম্পানিটি আরও নানা সমস্যার মুখে পড়ে। বেটারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক পর্যালোচনার সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং ব্যবসায় বড় ধরনের পতন দেখা যায়। ২০২১ সালে কোম্পানিটির বিক্রয় যেখানে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ছিল, ২০২৩ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ডলারে। যদিও গার্গের দাবি, চলতি বছর কোম্পানিটি প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের বিক্রয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছিল।

নিজের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পক্ষে গার্গ দাবি করেছেন, কোম্পানির ঋণ দেওয়ার পরিমাণ তিন গুণ বেড়েছে এবং বেটার লাভজনক হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছিল।

তবে এখন নিজের পদ ফিরে পাওয়ার জন্য আইনি লড়াইয়ে নামতে হয়েছে সেই সিইওকেই, যিনি পাঁচ বছর আগে একটি জুম কলে শত শত কর্মীর চাকরি একসঙ্গে কেড়ে নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও