
সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রিয়াদ। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে ইরান। তবে অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ফার্স্টপোস্ট।
উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত অর্থের লক্ষ্য হলো টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সহায়তা করা। বিনিময়ে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করতে হবে হুথিদের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান সোমবার তেহরান সফর করেন এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ইসরায়েল হায়োমের একটি সূত্রের দাবি, তিনি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমানে করে ওই অর্থ নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তা অর্থ বহন বা হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
পুরোনো সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা
প্রস্তাবিত আর্থিক প্যাকেজটি ইয়েমেনের সংঘাত নিরসনে আগের কিছু সমঝোতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন পরিশোধ ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সৌদি আরবের সহায়তা করার কথা ছিল। বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করার কথা ছিল।
ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি বাড়ায় পুরোনো সমঝোতাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। তবে হুথিরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে, অর্থ হস্তান্তর এবং সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিমানে করে অর্থ নিয়ে যাওয়ার দাবিও স্বাধীন কোনো সূত্রে যাচাই করা যায়নি।
মধ্যস্থতায় কেন ইরান
ইয়েমেন সংঘাতে হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। হুথিদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তেহরানের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ ইরানের আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভূমিকা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।
গত ২০ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন, আলোচনা আয়োজনের জন্য তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবে সৌদি আরব ও হুথিরা সাড়া দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক আলোচনার খবর থেকে কূটনৈতিক তৎপরতায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত ও অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সৌদি আরব জানিয়েছে, তেহরানে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কী প্রভাব পড়তে পারে
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে কার্যকর যুদ্ধবিরতি হলে দেশটির তেল স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর হামলাজনিত চাপও কমতে পারে।
অন্যদিকে, মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখার মাধ্যমে ইরান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। তবে প্রস্তাবিত অর্থের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ, হুথিদের সম্মতি এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য চুক্তির বাস্তব অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
সূত্র : ফার্স্টপোস্ট